Friday, October 31, 2014

সায়ন্হর ডাইরী থেকে

                                                                               

২৬শে বৈশাখ,

   রেডিওটা আজ জ্বালিয়ে মারছে, সকাল থেকে শুধু প্রেমের গান। তার ওপর একটা নাছোরবান্দা কোকিল সমানে ডেকে চলেছে সন্ধে থেকে। চাঁদের আলো আজ সুগন্ধের মত ভরিয়ে দিয়েছে অর্ধেক পৃথিবী। হাওয়ার উথাল- পাথাল  আদরে শহরের skyscraper গুলোর চোখের ঘুম গেছে উড়ে। প্রেমিক রেডিও, পাগল কোকিল,মাতাল হাওয়া আর পূর্নীমার চাঁদ। নাঃ এযাত্রা আর বাঁচবনা মনে হচ্ছে।

                               সিগারেটের ৩ নম্বর ফাঁকা প্যাকেটটা পরে আছে পাশে। গলা শুকিয়ে কাঠ। আয়নায় নিজের খুঁতগুলো খুঁটিয়ে দেখেছি অনেক্ষন, উঁহুঁঃ কোনো চান্সই নেই।

            আজ মন খুব অস্থির। সামনে পরীক্ষা, আর কাল তার "চিত্রাঙ্গদা" দেখে পড়াশনা সব ডকে উঠেছে। কেন এত হ্যাল্ হ্যালাচ্ছ বাপ, ওনার জন্য তো ছেলে দেখা হচ্ছে। উনিও নিশ্চই মনের আনন্দে সুখস্বপ্ন দেখছেন। আমার যদিও রাগের কোন কারন নেই, তবু ভীষণ রাগ হচ্ছে। শালার রেডিওটাকে মনে হচ্ছে ছুঁড়ে সাত সমুদ্র তের নদীর পারে ফেলে দি। কোকিলটার ঘাড় এবার মটকাবো। ষোলো কলা পুর্ন চাঁদটাকে মনেহচ্ছে ষোলো টুকরো করে ষোলো জায়গায় পুঁতে দি। আর এই হাওয়ার স্যুইচটা যদি হাতের কাছে পেতাম! ভগবানের ঘরে কি শালা লোডশেডিংও হয়না!

                                       বেশ তো ছিলি বাবা নিজের জীবনানন্দ, শঙ্খ ঘোষ, লিটল্ ম্যাগ নিয়ে। বেশ তো চলছিল চায়ের কাপে তুফান, টিউশানির মাইনে পেয়ে নিষিদ্ধ নিয়ম ভাঙার আগুন তরল। একটা ইমম্যাচিওর,নন্-ইন্টেলেকচ্যুয়াল, পুঁচকে মেয়ে,তোর সব আঁতলামো, সব ম্যাচিওরিটি, সব স্বাধীনতা একমূহুর্তে বানভাসী করে দিল!

                     হত শালা পাঁচ-দশ লক্ষ বছর আগেকার ব্যাপার, মাথায় মুগুড় ভেঙে হিঁচড়ে আনতাম ভালবাসা। কিন্তু হায়! সভ্যতার বেড়ি পরেছে আজ পৌরুষের দুহাতে। পাওয়ার ডাইমেসন গেছে উলটে। হাস্য, লাস্য, কটাক্ষ ও আরো বিবিধ প্রহরণ ধারন করে তেনারা আজকাল হাতে মাথা কাটেন।


                                                                                   সাঁজের ডাইরী থেকে

  ২৬শে বৈশাখ,

রেডিওটা কি আজ বেশিই সুরে বাজছে! নইলে এতবার শোনা গানগুলো প্রায় অপার্থীব লাগছে কেন? কোকিলটা বুঝি আজ আমার জন্যই গেয়েছে সারা সন্ধে। আমার সুখই বুঝি আজ ষোলকলা পুর্ন চাঁদ হয়ে আলোকিত করছে পৃথিবী। বাতাস আজ কিসের আনন্দে মেতেছে? ওর নাচও কি দেখতে আসবে কেউ?

                                                          কাল প্রোগ্রামে সায়হ্ন এসেছিল।আমি এক ঝলকের জন্যই দেখতে পাই, তারপড় বোধ হয় লুকিয়ে পরে বোকাটা। সকালে ফোন করে অস্বাধারন,অভূতপূর্ব, অবিস্মরনীয়, অনির্বচনীয়...... উফ কান ঝালাপালা করে দিয়েছে!
                 আচ্ছা হাঁদারাম তুইকি বুঝিসনি, কাল রাতের অস্বাধারন, অভূতপূর্ব, অবিস্মরনীয়, অনির্বচনীয় আমার নাচ শুধু মাত্র তোর জন্য ছিল? কাল চিত্রাঙ্গদা তার সমস্ত ইন্দ্রিয়, সমস্ত স্বত্বা, দিয়ে যে অর্জুনকে খুজছিল সে ফেডেড জিন্স আর পান্জাবী পড়ে আঁতেলের রাজ পোশাকে দাঁড়িয়ে ছিল দর্শকের পিছনের সারিতে।
                            তুই কি জানিস, কাল প্রোগ্রামের পর প্রায় দুঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম মেকআপ না মুছে, শুধু তোকে একবার দেখব বলে, শুধু তোর চোখের প্রসংসার দ্যুতি দুচোখ দিয়ে শরীরে নেব বলে।
                        বাড়ি থেকে ছেলে দেখা হচ্ছে নিশ্চই খবর গেছে। কিন্তু এটা কি তুই বুঝিস ভালবাসার জন্য আমি একটা বিয়ের সমন্ধ কেন, প্রয়োজনে পাত্রের হাড় ভাংতেও পিছপা হবনা।
                      ম্যাচিওর্ড, বুদ্ধিদীপ্ত, ইন্টেলেকচুয়াল, পন্ডিতটি যদি একটা ইমম্যাচিওর্ড, বোকা মেয়ের ভালবাসা না বুঝতে পারে তাহলে তার কিসের গর্ব?
              সামনে পরীক্ষা, পড়াশোনা নিশ্চই মাথায় উঠেছে, হাঃ ওরে আঁতেল আমার একটু হাসি একটু কটাক্ষ তোর সব ইন্টেকচুয়ালিটি, সব ম্যাচুইরিটি বানের জলে ভাসিয়ে দিতে পারে। আমার ম্যানিকিওর করা আঙ্গুলের ছোঁয়ায় গুলিয়ে যায় তোর সব বুদ্ধিদীপ্তি। তোর বাহু বলে গর্বে ফোলানো বেলুন আমার আই লাইনারের এক খোঁচায় চুপসে যায়। বুনো ঘোড়াকে বশ করার মন্ত্র মেয়েরা যে গর্ভ থেকে শিখে আসে।
[এটা একটা গল্প তাই একটা গল্পের হাওয়া, গল্পের গেছো গোড়ুর মত হাওয়া আরকি, সাঁজের ডাইরীর এই পাতা টা উড়িয়ে নিয়ে ফেলে সায়হ্নর কাছে]


                                                                  সায়হ্নর ডাইরী থেকে

২৭শে বৈশাখ,

      হে রেডিও, হে কোকিল, হে চাঁদ, হে বাতাস। আজ সবাইকে ক্ষমা করলাম। হে রেডিও তোমার সস্তা রোম্যান্টিসম আজ ক্ষমা করলাম। হে কোকিল তোমার সারা সন্ধের বাউল গান আজ ক্ষমা করলাম। হে চাঁদ তোমার নির্লজ্জ আলোকোচ্ছাস আজ ক্ষমা করলাম। হে বতাস তোমার মাতাল নাচন আজ ক্ষমা করলাম। হে বেলতলা স্পোর্টিং এর মারকুট্টা ডিফেন্ডার তোকেও ক্ষমা করে দিলাম আজ শেষ বারের মত। শুধু একটা ব্যাপারেই আমি ক্ষমা প্রার্থী নিজের কাছে। আজও আমার পড়তে বসা হলনা।
               


পোস্তয় মাখামাখি


পোস্তয় মাখামাখি

"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শিষের ওপর একটি শিশির বিন্দু।"

আজকাল পশ্চিম - বঙ্গসন্তানের রন্ধনকার্যে হাতেখড়ি হয় ম্যাগি দিয়ে বা পাঞ্জাবি খাদ্য প্রস্তুতিতে। কারণ পাঞ্জাবি খাদ্যের মূল স্তম্ভ হলো পেয়াজ, রসুন, অদা, টমেটো, লঙ্কা সব মিক্সি তেপিষে , পরে তেলে কষে যা ইচ্ছে ঢেলে দাও - একে একে বেরিয়ে আসবে রাজমা, মটর পনির, আলু মটর, গোবি আলু, চিকেন মসলা ইত্যাদি। এরপর যা ইচ্ছা মসলা যোগ করে তার বিস্তারকরা যেতে পারে। কিন্তু ব্যাচেলার বঙ্গসন্তান যখন এর ওর তার মুখে শুনে বাড়িতে বা মেস এ প্রথম পোস্ত  রান্না করে তখন বলে ওঠে, "আমারও পরানো যাহা চায় তুমি তাই , তুমি তাই।" আর ব্যাখা করে এই ভাবে,

"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
রান্না ঘরের কৌটো খুলিয়া,
ছড়িয়ে থাকা সফেদ সফেন, হাজার পোস্ত বিন্দু।"

কারণ একটাই, বাঙালি রান্নায় পোস্ত  ছাড়া এত সহজে আর কিছু রান্না করা সম্ভব নয়।  মানে এখন যদি আলুভাতে, ঘি ভাতের সাথে তুলনা করেন তাহলে চলবে না।
তবে সমস্যা আরো আছে।  আপনি কি পদ্মার এপারে না ওপারে। এপারে থাকলে আপাতত জিভে জল এসে গেছে। ওপারের হলে , "মালটা  কয় কি?" যদিও আমি এপারের তবু বিভিন্ন স্থানেথাকার এবং বিভিন্ন স্বাদের আস্বাদ গ্রহণ করে এখন আমি মোটামুটি সব জায়গাকার হয়ে গেছি। তাই দেখি এই অসামান্য মসলার কিছু সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি কিনা।

বর্ধমানে জন্ম আর হুগলি তে লম্বা হওয়ার দৌলতে পোস্ত  নিয়ে বরাবরই  এক ঘ্যাম আছে।  মা প্রবাসী হওয়ার দরুন, পোস্তর অতিরিক্ততা ছিল না বাড়িতে। তবু যখন কর্ম সুত্রে মুম্বাইপাড়ি  দিলাম তখন সঙ্গে " Magic Potion" এর মত এক কৌটো পোস্ত  ঝুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য,  সঙ্গী হলো উত্তর প্রদেশ, গুজরাত, মহারাষ্ট্র আর বিহারের কিছু ছেলে। সবাইপক্কান্নে অপটু এবং খাদ্যরসিক ( মানে রেঁধে দিলে , কেঁদে খায়) প্রথম দিকে ওরাই বানাচ্ছিল তাই খেয়ে নানা কমেন্টস মারছিলাম। তারা সকলেই veg  তাই তাদের কোনরকমexpectation ছিল না আমার থেকে। কারণ যেমন দ্রাবিড় মানেই তেঁতুল আর সামবার, বাঙালি মাত্রেই মাছের ঝোল আর ভাত।  আমরা যে পিয়াজ রসুন কেও আমিষ বলে এসব ছাড়াইঅসাধারণ তরকারী রান্না করতে পারি সেটা আমরাও ছড়াই না , আর ওরাও জানে না।

যাইহোক ভেবেছিলাম ওস্তাদের মার শেষ রাত্রে। তাই এক সুন্দর ল্যাদ খাওয়া দুপুরে আমি পোস্ত বানালাম। ঝাল ঝাল আলু পোস্ত। বাচেলর দের যেরকম হয়, একটা ডাল, একটা ভাত, আরএকটা তরকারী। সেদিন সকলে শুধু ডাল ভাত খেয়েছিল আর বলেছিল, "তুমলোগ ইতনা সাদা খানা কইসে খা সকতে হো।" সেই প্রথম গর্ব ভঙ্গ হয়েছিল। পরে যদিও অনেকবার হয়।   তাইএকবার ভেবেছিলাম  লেখা টা ইংলিশ এ লিখি , সবার জন্য। কিন্তু শেষে ভাবলাম থাক, বাঙালির জিভে পোস্তদানার স্বাদ গ্রহনের কিছু বেশি কোষ আছে যেটা বাকিদের নেই।  দুর্ভাগ্যতাদের।

তবে একটা কথা, পোস্ত  কিন্তু অনেক জাতিতে বেশ চলে। তবে সবাই গোটা পোস্ত বা কাজুর সাথে বেটে খায়। আর হ্যা , পোস্ত  কিন্তু কালো বা নীলচে স্লেট রঙেরও হয় , যেটা আমাদেরসাদা পোস্তর থেকে অনেক বেশি জনপ্রিয় আরব দেশে বা রাশিয়ায়।

থাক সবার কথা, ঘটিদের পোস্ত নিয়েই বলি।  ঘটিদের পোস্ত  বড় অভিমানী।  সাথে কোনো মসলাকে সহ্য করতে পারে না। তাই পোস্তর সাথে কোনরকম মসলা চলে না।  কিছু ক্ষেত্রেপোস্তর সাথে কালোজিরে, পাঁচফোড়ন আর টমেটো দেওয়ার চেষ্টা করলে বড্ড বিচিত্র এক স্বাদের সৃষ্টি করে , যাতে পোস্তর দাম ওঠে না।  কারণ এর স্বাদ অত্যন্ত হালকা এবং নিরীহ তাইকোনরকম ঝাঁঝালো স্বাদের উপস্থিতি এর স্বাত্ত্বিক স্বাদে ঘা  মেরে দেয়।  তাই আদা, রসুন বা টমেটো কোনটাই এর সাথে যায় না, সোজা কথায় কোনো ফোড়ন চলে না।  । ঝাল বলতেকাঁচা
লঙ্কা আর শুকনো লঙ্কা ছাড়া গতি নেই।  ভুলেও যেন গোলমরিচের ব্যবহার না করা হয়।  পিয়াজ যদিও চলে কিন্তু সেটাও শুধু পিয়াজ পোস্ততে। একমাত্র এই যুদ্ধেই দুই রাজা গলা জড়িয়েযুদ্ধ জয় করে।

ভালো ও খারাপ পোস্ত  রান্নার এক বড় মাপকাঠি হলো সময়।  পোস্ত দিয়ে কখনো ফোটাতে নেই। ফোটালেই সে ফুটে যায়।  বলতে গেলে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পোস্ত প্রস্তুতির পদ্ধতি সবক্ষেত্রে এক। সবজি বা মাছ যা কিছুই একটু ভেজে নরম করে নাও আর তার পরে নামানোর আগে পোস্ত  দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়িয়ে নাও , ব্যাস পোস্ট রেডি।

আমি আজ পর্যন্ত যে যে সবজির সাথে পোস্ত খেয়েছি সেগুলো হলো, আলু, ভিন্ডি, কচি সজনে ডাঁটা, ঝিঙে, পটল, ফুলকপি, চিচিঙ্গে এবং সবশেষে বেগুন। বেগুন পোস্ত  আত্মহত্যার নামান্তরবলে আমার মনে হয়েছে। কিন্তু বাকি গুলো আমার স্বপ্নে রোজ  আসে ( পাতে কম ) । এবার মিলিয়ে মিশিয়ে করতে গেলে আলু - ডাঁটা, আলু - ঝিঙে অসাধারণ। কিন্তু খবরদার বাকি গুলোমিশিয়ে ফেলবেন না। 

পিয়াজ পোস্তর একটা আলাদা ক্লাস আছে।  পদ্ধতিও দু ধরনের। আমার পদ্ধতি পিয়াজ ভেজে লাল লাল করে তাতে পোস্ত ঢেলে শুকনো শুকনো খাওয়া। আর আমার গিন্নির ফাঁকিবাজি কিন্তুদ্রুত পদ্ধতি হলো পিয়াজ ভাজার সময় একটু জল ঢেলে দেওয়া। ব্যাস সম্পূর্ণ দুটো স্বাদ বেরিয়ে আসবে। তেল ও কম লাগবে। গরম ভাতে পিয়াজ পোস্তর সাথে একমাত্র তুলনীয় হলো লইট্টাশুঁটকি চাটনি।

সবজি যখন হলো তখন শাক কেন  বাদ যাবে।যদিও একমাত্র পুই শাক পোস্ত আমার মুখে রুচেছে তাই এর কথাই  বলি।  যদি ভাবেন পুই শাকে পোস্ত দিলে পুই আর পোস্তর দুটোরইঅপমান করছেন তাহলে  বলব একবার করে দেখুন। আমার এই লেখাটা চোখে ভাসবে। পুই রান্নার নিয়ম হলো গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো । ইনি নিজের জলে নিজেই সেদ্ধ হন যদিও সব শাকইএকই প্রকার তবু পুই ডাঁটা দেখলে মনে হয় , "এ গলার পাত্র নয়।" তবে বিশ্বাস করুন শাক আর মহিলা নিজের প্রশংসাতেই  গলে যায়।  তাই যখন ঢাকা দিয়ে গলিয়ে ফেলেছেন , তারপরপোস্ত বাটা ঢেলে ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে নিন। ব্যাস এইটুকুই।

শুধু সবজি আর শাক  থাকলে বাঙালির রসপূর্তি পূর্ণ হয় না।  তাই মাছ পোস্ত। কিছু মাছ আছে যার পোস্ত অনবদ্য। যেমন টাটকা ছোট রুই/কাতলা/মৃগেল, তিলাপিয়া, পুঁটি। তবে হ্যামাছের রাজা ইলিশ কিন্তু পোস্ত সহ্য করতে পারে না। কিন্তু এই একমাত্র মাছের কারণে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। ইলিশ মাছেরই একমাত্র সরষে পোস্ত  সম্ভব এবং তার স্বাদ ভেবেইটপ করে নাল পরে  গেল।  মাছ পোস্তর জন্যও একই রেসিপি কিন্তু রুই মাছ বেশি ভাজতে হয় আর বাকি মাছ কম ভাজতে হয় বিশেষ করে তিলাপিয়া।

এতক্ষণ যা নিয়ে বকছিলাম তাতে পোস্ত ছিলো  মসলা। এবার যা বলব তাতে পোস্ত প্রাথমিক। পোস্তর বড়া আর কাঁচা পোস্ত বাটা। পোস্তর বড়া বানানোর জন্য পোস্তটাকে ঠিকঠাক  বাটতেহবে। অতিরিক্ত পাতলা হয়ে গেলেই গেরো। তাই যারা মিক্সিতে পোস্ত বাটে তাদের জন্য বলছি প্রথমে শুকনো পোস্ত দিয়ে মিক্সিতে ঘুরিয়ে / নিন তারপর একটু একটু জল দিয়ে থকথকে পেস্টবানিয়ে তারপর গোল গোল করে ভাজুন। আমার গিন্নি আবার একটু পিয়াজ দেয়,বেটে না কেটে , মানে কুচিয়ে, তাতে যদিও স্বাদের কোনো তারতম্য  ঘটে না।  পয়সার সাশ্রয় হয়। পয়সাসাশ্রয়ের আরেক ধান্দাবাজি হলো পোস্তর সাথে তিল বেটে নিন।  সাদা তিল।  কিন্তু স্বাদের তারতম্য বেশ বোঝা যাবে তাতে। পোস্ত প্রেমীদের এই ফাঁকিবাজি থেকে দুরে থাকা ভালো। কারণবিবেকানন্দও পোস্ত ও তিলের বড়া খেয়েই বলেছিলেন, "ফাঁকি দিয়ে কোনো মহত কার্য্য সম্পন্ন হয় না। " আরেক statutory warning দিয়ে রাখি এই বড়া যা তেল টানবে সেই তেল সহ্যকরার ক্ষমতা থাকলে তবেই এই বড়ার প্রতি নজর দেবেন।

এরপর মহার্ঘ্য হলো পোস্ত বাটা। যেকোনো শারীরিক পরিস্থিতে ঝালের তারতম্য করে পোস্ত  বেটে নিন।  সাথে একটু সর্ষের তেল আর পিয়াজ কুচি আর নুন দিয়ে মেখে নিন।  আর গরমভাতে মেখে খান।  জীবনের মানেই পাল্টে যাবে।  বর্ধমানে কোথাও কোথাও লোকে আবার মাছের ঝোলের সাথে ভাত মাখার পর পোস্ত বাটাও মেখে খায়।

পোস্তর এক দোসর হলো কাজু। এখানে পোস্ত passive । অনেক তরকারী মাখো মাখো করতে পোস্ত ও কাজু বাটা ব্যবহার করা হয়।  অত্যন্ত ভারী হয় তবে মাংসর জগতে পোস্তর entryশুধু মাত্র  কাজুর হাত ধরে।   তাই সাধারণ মাংসের ঝোলকে অসাধারণ করতে জুড়ে দিন কাজু আর পোস্ত বাটা। সব স্বাদের সাধ পূর্ণ হয়ে যাবে। 

কিন্তু মিষ্টিমুখ না হলে কি আর সাধ পূর্ণ হয়।  আর এখানেই বাংলা ফেল মেরে গেছে। বাংলায় আমি দু তিনপ্রকার মিষ্টি খেয়েছি যাতে গোটা পোস্ত  দেওয়া থাকে। নাম যদিও ভুলে গেছি।কিন্তু বাংলার বাইরে আমি হাজার মিষ্টি খেয়েছি যার উপরের কভার পোস্ত  দিয়ে বানানো। এছাড়াও দক্ষিন ভারতে পায়েস বা rice pudding  এর মধ্যেও পোস্ত দেওয়া হয়।  বিদেশেরমাটিতেও অনেক মিষ্টি খেয়েছি যার অন্যতম উপাদান হলো পোস্ত। কিছু নাম দিলাম Germknödel, Hamantashen, Kalach, Kołacz, Kutia, Mákos bejgli, Makowiecযেগুলো নানা দেশের মিষ্টি। wikipedia থেকে পরে নেবেন। তাই মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির পোস্তপ্রীতি প্রস্ফুটিত হয়না বিশ্ব মাঝে। 

তো এই ছিল পোস্তর কাহিনী। এইবার প্রস্তুতি শুরু হোক।